একটা ছোট্ট গ্রামে একটা বড়ো আমগাছ ছিল। সেই গাছের এক ডালে বাসা বানিয়ে থাকতো একটা ছোট্ট পাখি, তার নাম ছিল রিনু। রিনু খুব ভয় পেতো। একটু শব্দ হলেই সে কাঁপতে শুরু করতো। তার মা সবসময় তাকে বলতো, “ভয় পেলে চলবে না, সাহস করে বাঁচতে হয়।” কিন্তু রিনু কিছুতেই সাহসী হতে পারতো না। একদিন তার মা বললো, “আজ তোমাকে উড়তে শিখতে হবে।” রিনু ভয় পেয়ে বললো, “না মা, আমি পড়ে যাবো।” মা তাকে বুঝিয়ে বললো, “আমি পাশে আছি, তুমি পারবে।” অনেক ভয় নিয়ে রিনু ডাল থেকে লাফ দিলো। প্রথমে সে একটু নিচে নেমে গেলো, কিন্তু তারপর ডানা নেড়ে ধীরে ধীরে আকাশে ভেসে উঠলো। সে অবাক হয়ে গেলো—সে সত্যিই উড়তে পারছে। আনন্দে সে চিৎকার করে উঠলো, “আমি পারছি!” কিছুদিন পর একদিন খুব জোরে ঝড় শুরু হলো। আকাশ কালো হয়ে গেলো, বাতাসে গাছের ডালপালা দুলতে লাগলো। অনেক পাখি ভয় পেয়ে লুকিয়ে পড়লো। সেই সময় রিনু দেখলো, একটা ছোট্ট বাচ্চা পাখি গাছের নিচে পড়ে গেছে। সে খুব ভয় পেলো। তার মনে হলো, “আমি যদি যাই, আমিও বিপদে পড়তে পারি।” কিন্তু তখনই তার মায়ের কথা মনে পড়লো—ভয় পেলেও সঠিক কাজটা করতে হয়। রিনু সাহস করে ঝড়ের মধ্যে উড়ে গেলো। বাতাস খুব জোরে বইছিল, তবুও সে থামলো না। সে বাচ্চা পাখিটাকে ঠেলে ঠেলে একটা নিরাপদ জায়গায় নিয়ে গেলো। অনেক কষ্টের পর দুজনেই একটা গাছের ফাঁকে আশ্রয় নিলো। কিছুক্ষণ পর ঝড় থেমে গেলো। বাচ্চা পাখির মা এসে তাকে নিয়ে গেলো এবং রিনুকে ধন্যবাদ জানালো। সেদিনের পর থেকে রিনু বুঝতে পারলো, সাহস মানে ভয় না পাওয়া নয়, বরং ভয় পেয়েও ভালো কাজ করা। এরপর থেকে সে আর আগের মতো ভয় পেতো না। সে জানতো, সে চাইলে সবকিছু করতে পারে।